চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল ম্যারাথন ২০২৬-এর ১০ কিলোমিটার দৌড়ে সাফল্য অর্জন করেছে চট্টগ্রামের রানিং কমিউনিটি সিন্ডিকেট রানার্স। প্রতিযোগিতায় দলের সদস্য আরাফাতুল ইসলাম প্রথম রানার-আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। একই বিভাগে সেরা দশে স্থান করে নিয়েছেন দলের আরেক সদস্য মোহাম্মদ ফয়সাল।শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত পার্কেস এলাকায় অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় সিন্ডিকেট রানার্সের সদস্যদের অংশগ্রহণ ও সাফল্য দলের অন্য সদস্যদের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি তৈরি করেছে।চার ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত ম্যারাথনঅ্যাকটিভপালস বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল ম্যারাথন ২০২৬-এ ৪২ কিলোমিটার, ২১ কিলোমিটার, ১০ কিলোমিটার ও ১ কিলোমিটার—মোট চারটি ক্যাটাগরিতে দৌড় অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন বয়স ও সক্ষমতার দৌড়বিদেরা অংশ নেন।শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করা, নিয়মিত শরীরচর্চায় মানুষকে উৎসাহিত করা এবং সক্রিয় জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।আরাফাতুলের রানার-আপ অর্জন, সেরা দশে ফয়সাল১০ কিলোমিটার দৌড়ে আরাফাতুল ইসলামের প্রথম রানার-আপ হওয়া সিন্ডিকেট রানার্সের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। একই বিভাগে মোহাম্মদ ফয়সালের সেরা দশে স্থান করে নেওয়াও দলের সাফল্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।দলের সদস্যদের মতে, নিয়মিত অনুশীলন, অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস ও পারস্পরিক সহযোগিতা দৌড়বিদদের এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম অনুপ্রেরণা। তাঁদের কাছে প্রতিযোগিতায় ভালো অবস্থান অর্জনের পাশাপাশি নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানো এবং একে অপরকে উৎসাহিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।১২ সদস্যের অংশগ্রহণচট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল ম্যারাথন ২০২৬-এ সিন্ডিকেট রানার্সের হয়ে অংশ নেন মোহাম্মদ ফয়সাল, আরাফাতুল ইসলাম, জিহাদ খান, ইরাদ, নাজিম, নিয়াজ, জিহাদ, সামি, নাঈম, জাহিদুল, কায়সার ও ইরফান।দলের ১২ সদস্যের একসঙ্গে অংশগ্রহণ পারস্পরিক সহযোগিতা, দলীয় সংহতি এবং দৌড়ের প্রতি তাঁদের আগ্রহের প্রতিফলন। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যাশা তাঁদের।‘দৌড় আমাদের সুস্থতা, মানসিক প্রশান্তি ও আনন্দের অনুপ্রেরণা’সিন্ডিকেট রানার্সের সদস্য মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, “দৌড় আমার কাছে শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; এটি সুস্থ ও সুন্দর জীবনযাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমরা সুস্থ থাকার জন্য দৌড়াই, মানসিক প্রশান্তির জন্য দৌড়াই এবং জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে আরও আনন্দময় করে তুলতে দৌড়াই। নিয়মিত দৌড় আমাদের শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তুলতে সহায়তা করে।”তিনি আরও বলেন, “আরাফাতুল ইসলামের প্রথম রানার-আপ হওয়া এবং আমার সেরা দশে জায়গা করে নেওয়া আমাদের দলের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের। তবে আমাদের কাছে সাফল্যের অর্থ শুধু পদক বা প্রতিযোগিতার ফলাফল নয়; বরং একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়া, একে অপরকে অনুপ্রাণিত করা এবং আরও বেশি মানুষকে সুস্থ জীবনযাপনে উৎসাহিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”ফয়সাল জানান, তাঁরা চান দৌড় মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠুক এবং একটি সুস্থ, সচেতন ও ইতিবাচক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখুক।‘Run Together • Grow Together’—সিন্ডিকেট রানার্সের মূলমন্ত্র‘Run Together • Grow Together’—একসঙ্গে দৌড়, একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়া—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে এগিয়ে চলেছে সিন্ডিকেট রানার্স। নিয়মিত অনুশীলন, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং বিভিন্ন দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের আরও দক্ষ করে তোলার লক্ষ্য রয়েছে দলটির।চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল ম্যারাথন ২০২৬-এ আরাফাতুল ইসলামের রানার-আপ অর্জন, মোহাম্মদ ফয়সালের সেরা দশে অবস্থান এবং দলের অন্য সদস্যদের অংশগ্রহণ সিন্ডিকেট রানার্সের পথচলায় নতুন অনুপ্রেরণা যোগ করেছে।দৌড়ের মাধ্যমে সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া এবং চট্টগ্রামে ইতিবাচক রানিং সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রত্যাশা নিয়ে এগিয়ে যেতে চায় দলটি।