বাংলাদেশ ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মালিকের বাসায় কর্মচারীর ঝুলন্ত মরদেহ, প্রশ্নের মুখে মৃত্যুর কারণ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০০:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬ ৬৬ বার পড়া হয়েছে

জন্মদিনের মিলল ঝুলন্ত মরদেহ, ফাহিমের মৃত্যু ঘিরে রহস্যজন্মদিনের আনন্দ শেষ না হতেই পরিবারের কাছে আসে এক মর্মান্তিক সংবাদ। রাজধানীর শাহজাহানপুরের মালিবাগ এলাকার একটি বাসা থেকে ফাহিম আরাফাত (২৬) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৫ জুন) সকালে উদ্ধার করা মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।ফাহিম আরাফাত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরত ছিলেন। কর্মস্থলের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি মাঝে মধ্যে প্রতিষ্ঠানের মালিকের ব্যক্তিগত কাজও দেখাশোনা করতেন। সেই সূত্রে মালিবাগের ওই বাসায় তার যাতায়াত ছিল বলে জানিয়েছে পরিবার।স্বজনদের দাবি, মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও ফাহিমের আচরণ ছিল একেবারেই স্বাভাবিক। জন্মদিন উপলক্ষে তিনি আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু ও পরিচিতজনদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সক্রিয় ছিলেন। তাই হঠাৎ তার এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা।নিহতের ভাই ফাহমিদ বলেন, “আমার ভাইকে নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন ছিল। পরিবারের দায়িত্ব তার কাঁধে ছিল। কোনো ধরনের মানসিক অবসাদ বা পারিবারিক সমস্যার কথা আমরা কখনো শুনিনি। তাই এই মৃত্যুকে আমরা রহস্যজনক মনে করছি।”পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর ফাহিমের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনের মধ্যে একটি উদ্ধার হলেও অপরটি পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ ফোনটিতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য ও বিভিন্ন অনলাইন অ্যাকাউন্টের তথ্য সংরক্ষিত ছিল বলে দাবি তাদের।স্বজনদের ভাষ্যমতে, যে বাসা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে সেটি তার প্রতিষ্ঠানের মালিকের বাসা। ঘটনার সময় মালিক ঢাকার বাইরে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।ফাহিম অবিবাহিত ছিলেন এবং পারিবারিকভাবে তার বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য হিসেবে তিনি বাবা-মাসহ পুরো পরিবারের ভরসা ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে শোক ও অনিশ্চয়তায় পড়েছে পরিবারটি।ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণের পর মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে পরিবারের দাবি, ঘটনাটিকে শুধুমাত্র আত্মহত্যা হিসেবে না দেখে সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করা হোক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মালিকের বাসায় কর্মচারীর ঝুলন্ত মরদেহ, প্রশ্নের মুখে মৃত্যুর কারণ

আপডেট সময় : ০৬:০০:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

জন্মদিনের মিলল ঝুলন্ত মরদেহ, ফাহিমের মৃত্যু ঘিরে রহস্যজন্মদিনের আনন্দ শেষ না হতেই পরিবারের কাছে আসে এক মর্মান্তিক সংবাদ। রাজধানীর শাহজাহানপুরের মালিবাগ এলাকার একটি বাসা থেকে ফাহিম আরাফাত (২৬) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৫ জুন) সকালে উদ্ধার করা মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।ফাহিম আরাফাত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরত ছিলেন। কর্মস্থলের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি মাঝে মধ্যে প্রতিষ্ঠানের মালিকের ব্যক্তিগত কাজও দেখাশোনা করতেন। সেই সূত্রে মালিবাগের ওই বাসায় তার যাতায়াত ছিল বলে জানিয়েছে পরিবার।স্বজনদের দাবি, মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও ফাহিমের আচরণ ছিল একেবারেই স্বাভাবিক। জন্মদিন উপলক্ষে তিনি আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু ও পরিচিতজনদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সক্রিয় ছিলেন। তাই হঠাৎ তার এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা।নিহতের ভাই ফাহমিদ বলেন, “আমার ভাইকে নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন ছিল। পরিবারের দায়িত্ব তার কাঁধে ছিল। কোনো ধরনের মানসিক অবসাদ বা পারিবারিক সমস্যার কথা আমরা কখনো শুনিনি। তাই এই মৃত্যুকে আমরা রহস্যজনক মনে করছি।”পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর ফাহিমের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনের মধ্যে একটি উদ্ধার হলেও অপরটি পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ ফোনটিতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য ও বিভিন্ন অনলাইন অ্যাকাউন্টের তথ্য সংরক্ষিত ছিল বলে দাবি তাদের।স্বজনদের ভাষ্যমতে, যে বাসা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে সেটি তার প্রতিষ্ঠানের মালিকের বাসা। ঘটনার সময় মালিক ঢাকার বাইরে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।ফাহিম অবিবাহিত ছিলেন এবং পারিবারিকভাবে তার বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য হিসেবে তিনি বাবা-মাসহ পুরো পরিবারের ভরসা ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে শোক ও অনিশ্চয়তায় পড়েছে পরিবারটি।ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণের পর মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে পরিবারের দাবি, ঘটনাটিকে শুধুমাত্র আত্মহত্যা হিসেবে না দেখে সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করা হোক।