নারীর অধিকার নিয়ে কথা বলা সহজ, কিন্তু রাজপথে দাঁড়িয়ে নির্যাতন সহ্য করে সেই অধিকার আদায়ের লড়াই চালিয়ে যাওয়া সবার পক্ষে সম্ভব নয়। তন্বী মল্লিক সেই কজন সাহসী নারীর একজন, যিনি দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থেকেছেন, হয়েছেন নির্যাতনের শিকার, তবুও পিছু হটেননি।আজ যখন নারী নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা হয়, তখন শুধু পদ-পদবীর প্রশ্ন নয়—প্রশ্ন উঠে আসে ত্যাগ, সাহস আর আদর্শের। একজন নারী কতটা দৃঢ় হলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারেন? কতটা শক্ত হলে দমন-পীড়নের পরও মাথা নত করেন না? তন্বী মল্লিক সেই প্রতীক, যিনি প্রমাণ করেছেন নেতৃত্ব মানে শুধু ক্ষমতা নয়, দায়িত্বও।নারী স্বাধীনতা মানে কেবল ঘরের বাইরে কাজ করার সুযোগ নয়—মানসিক স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, নিরাপদ সমাজে বেঁচে থাকার অধিকার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমান অংশগ্রহণ। একজন সংগ্রামী নারী নেত্রী সংসদে গেলে, সেখানে শুধু একটি নাম যোগ হয় না—যোগ হয় রাজপথের অভিজ্ঞতা, নির্যাতনের স্মৃতি, এবং নারীর অশ্রু-ঘামের ইতিহাস।আমি বিশ্বাস করি, তন্বী মল্লিক সুযোগ পেলে নারীর অধিকার রক্ষায় আরও সোচ্চার ভূমিকা রাখবেন। কারণ যিনি নিজে অন্যায়ের শিকার হয়েছেন, তিনি জানেন অন্যায়ের যন্ত্রণা কত গভীর। যিনি রাজপথে লড়েছেন, তিনি জানেন সাধারণ নারীর কষ্ট কত বাস্তব।নারী নেতৃত্বের পরিবর্তন দরকার। দরকার সাহসী, আপসহীন ও সংগ্রামী কণ্ঠস্বর। তন্বী মল্লিক সেই কণ্ঠ হতে পারেন—যিনি সংসদে দাঁড়িয়ে বলবেন, “নারীর অধিকার কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি আমাদের প্রাপ্য।”সময়ের দাবি এখন পরিষ্কার—প্রতীকী নেতৃত্ব নয়, কার্যকর নেতৃত্ব। নারী স্বাধীনতার প্রশ্নে আর কোনো আপস নয়।